Summary
বাংলাদেশের বনজ সম্পদের পরিমাণ ১৭% এবং এটি বিভিন্ন কারণে ধ্বংসের সম্মুখীন। বন সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি জন্য বনায়ন অপরিহার্য।
রোপণ চারা ও বৃক্ষ সংরক্ষণ:
- রোপিত চারা সংরক্ষণের উপায়গুলি লিখতে হবে।
- প্রুনিং-এর মাধ্যমে কাষ্ঠল বৃক্ষ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা জানাতে হবে। প্রুনিং-এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ডালপালা কর্তন করা হয়, যা কাঠের পরিমাণ ও মান বৃদ্ধি করে।
- চারা রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে অথবা প্রাকৃতিক পন্থায় রোগ দমন করতে হবে।
আনুর বন ভ্রমণের গল্প:
আনু শীতের ছুটিতে গাজীপুরের শালবনে গিয়েছিল এবং বনের গাছ কেটে ধ্বংস হওয়ার দৃশ্য দেখে কষ্ট পেয়েছিল। তাঁকে জানানো হয় যে বনদস্যুরা গাছ কেটে বিক্রি করছে। আনু বন রক্ষার উপায় নিয়ে চিন্তা করে এবং তার খাতায় লিখে।
বন রক্ষার উপায়সমূহ:
- বনদস্যুদের প্রতিহত করতে হবে।
- প্রাণীদের হত্যা করা যাবে না।
- বনের গুরুত্ব বোঝানো।
- সামাজিক বন সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ।
- বন সংরক্ষণ আইন জানানো এবং পালন করা।
- জনগণকে সচেতন করা।
দলগতভাবে বন সংরক্ষণে আরও উদ্যোগ নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন প্রকার বৃক্ষ ও বন সংরক্ষণ
আমাদের বনজ সম্পদের পরিমাণ শতকরা ১৭ ভাগ। আবার নানা কারণে বিরাজমান বনজ সম্পদও ধ্বংসের মুখোমুখি। এই বনজ সম্পদ রক্ষা ও বৃদ্ধি করতে হলে বনায়ন দরকার। আমাদের চারপাশের নতুন রোপণ করা চারা ও বন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

| কাজ: রোপণ করা চারা ও বৃক্ষ সংরক্ষণ ১. উপরের চিত্র পর্যবেক্ষণ কর। রোপণ করা চারা সংরক্ষণের উপায়গুলো লেখ। ২. প্রুনিং এর মাধ্যমে কাষ্ঠল বৃক্ষ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে লেখ। |
কাষ্ঠল বৃক্ষকে মূল্যবান করে তোলার জন্য অপ্রয়োজনীয় ডালপালা কর্তন করাকে প্রুনিং বলা হয়। গাছকে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রুনিং করা হলে কাঠের পরিমাণ ও মান উন্নত হয়। সড়ক বাঁধ, বসতভিটা সবক্ষেত্রেই উপযুক্ত পরিচর্যা না করলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় না। চারা ছত্রাকজনিত রোগ বা পোকা-মাকড় দিয়ে যথেষ্ট পরিমাণ আক্রান্ত হলে রাসায়নিক কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক দিয়ে তা দমন করতে হবে। তবে প্রাকৃতিকভাবে রোগবালাই দমন করতে পারলে খুবই ভালো হয়।

বন সংরক্ষণ
আনুর বন ভ্রমণের গল্প
গাছপালায় ঘেরা মনোরম পরিবেশ আনুর খুবই পছন্দ। শীতের ছুটিতে সে বাবার সাথে গাজীপুরের শালবন ভ্রমণে গেল। বনের শাল ও গর্জন গাছ দেখে সে আনন্দিত হলো। কিন্তু বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বনের গাছ কেটে উজাড় করার দৃশ্য তাকে খুবই কষ্ট দিল। সে দেখলো বন দখল করে মানুষ বসতবাড়ি নির্মাণ করছে। এ ছাড়া নানা উপায়ে বন ধ্বংস করে দখলের পালা চলছে। তার বাবা বললেন আরও বিস্তৃত এলাকাজুড়ে এ বন ছিল। বনে হরেক রকমের পশুপাখি দেখা যেতো। বাবার কাছে আরও জানল বনদস্যুরা এ বনের বৃক্ষ কেটে চুরি করে বিক্রি করছে। আনু আমাদের দেশের বন রক্ষা করার উপায় নিয়ে সারারাত ভাবল। তার খাতায় সে বন রক্ষার উপায় সম্পর্কে লিখলো।
উপায়গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. বনদস্যুদের প্রতিহত করতে হবে।
২. জনগণকে বনের গুরুত্ব বোঝাতে হবে।
৩. সামাজিক বন সৃষ্টিতে সবাইকে অংশ নিতে হবে।
৪. বনের পশু-পাখি ধ্বংস করা যাবে না।
৫. স্বাভাবিক নিয়মে বন সৃষ্টিতে বাধা দেওয়া যাবে না।
৬. বন সংরক্ষণ আইন জানব এবং সবাইকে তা মেনে চলার পরামর্শ দিব।
৭. জনগণকে বন সংরক্ষণে সচেতন করব।
কাজ: তোমরা সবাই আনুর বন ভ্রমণের গল্প মন দিয়ে শোন। দলগতভাবে বন সংরক্ষণে আরও কী কী উপায় অবলম্বন করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা কর। পোস্টার পেপারে চিত্রটি সম্পন্ন করে দলগত উপস্থাপন কর। ![]() |
Read more
